আদাব সম্পর্কে ইসলাম কি বলেআদাব সম্পর্কে ইসলাম কি বলে - ইসলামপিডিয়া

আদাব অর্থ কি, আদাব সম্পর্কে ইসলাম কি বলে, আদাব ও নমস্কার এর পার্থক্য, হিন্দুদের আদাব দেওয়া যাবে কি, অমুসলিমদের সালাম দেওয়া যাবে কি- এই বিষয়গুলো নিয়ে প্রায়শই মুসলিমরা দ্বিধাগ্রস্ত হন। আজকে এসব প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য ইসলামি গবেষণাভিত্তিক ব্যাখ্যা জেনে নিন ।

বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মুসলিম সমাজে আমরা ছোটবেলা থেকেই শিখে আসছি যে আমাদের থেকে বয়সে বড়দের সালাম দিতে হয়। কিন্তু যখন কোনো অমুসলিমের সঙ্গে দেখা হয়, তখন অনেক সময় আমাদেরকে বলা হয় তাকে “আদাব” বলতে। আমরা অনেকেই ছোটবেলা থেকেই ‘আদাব’ শব্দের প্রকৃত অর্থ না জেনেই হিন্দু শিক্ষক বা অন্যান্য ধর্মাবলম্বী বড়দের আদাব বলে থাকি। চলুন জেনে নেওয়া যাক—আদাবের অর্থ কী?

আদাব অর্থ কি

“আদাব” শব্দটি আরবি ‘أدب’ (আদাব) থেকে এসেছে।আদাব শব্দটির অর্থ হলো সম্মান, শ্রদ্ধা, বিনয়, নম্রতা, ভদ্রতা, সভ্যতা, কৃষ্টি, সুশিক্ষা, নৈতিকতা, মানবিকতা, শোভনীয়তা ও শিষ্টাচার। ইসলামে আদাব বলতে বোঝায়—আচরণে সৌন্দর্য, কথায় নম্রতা এবং অন্য মানুষের সাথে উত্তম ব্যবহার করা

অর্থ বোঝার পাশাপাশি আমাদের আরও একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে—যে শব্দটি কোন প্রেক্ষিতে, কোন উদ্দেশ্যে এবং কোন অর্থে ব্যবহার হচ্ছে। “আদাব” শব্দটিও এর ব্যতিক্রম নয়। আপনি যখন কাউকে বলেন “আদাব”, তখন এর দ্বারা বোঝানো হয়—আমি আপনাকে সম্মান জানাচ্ছি, ভদ্রতা প্রকাশ করছি এবং শিষ্টাচারপূর্ণ অভিবাদন জানাচ্ছি।

আদাব সম্পর্কে ইসলাম কি বলে

ইসলামী শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী কোনো অমুসলিমকে “আদাব” বলা যেতে পারে, কিন্তু তাকে সালাম দেওয়া যাবে না। এখানে আদাব বলার অর্থ হলো—আপনি তাকে বলছেন, “আমি আপনাকে সম্মান জানাচ্ছি”—এটি শরিয়তসম্মত ও বৈধ। কারণ কুরআনে উল্লেখ আছে:

দীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করেনি, আর তোমাদেরকে তোমাদের ঘর-বাড়ী থেকে বের ক’রে দেয়নি তাদের সঙ্গে সদয় ব্যবহার করতে আর ন্যায়নিষ্ঠ আচরণ করতে আল্লাহ নিষেধ করেন নি। আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদেরকে ভালবাসেন। সূরা আল-মুমতাহিনা: ৮

আর তোমাদেরকে যখন অভিবাদন করা হয় তখন তোমরাও তার চেয়ে উত্তম প্রত্যাভিবাদন করবে অথবা সেটারই অনুরূপ করবে; নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুর হিসেব গ্রহণকারী। সূরা আন-নিসা: ৮৬

আর যদি তারা তোমাকে আমার সাথে শিরক করতে জোর চেষ্টা করে, যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তখন তাদের আনুগত্য করবে না এবং দুনিয়ায় তাদের সাথে বসবাস করবে সদ্ভাবে। সূরা লুকমান: ১৫

এসব আয়াতে অমুসলিমদের প্রতি সৌজন্য, ন্যায়পরায়ণতা ও উত্তম আচরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—হিন্দু সংস্কৃতিতে ‘আদাব’ বা শ্রদ্ধা জানানোর কিছু প্রচলিত রেওয়াজ রয়েছে, যেখানে হিন্দু বা অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা আদাবের সময় মাথা নত করে হাত বুকে রেখে সম্মান প্রকাশ করেন।

এ ধরনের আচরণ মুসলমানদের জন্য নিষিদ্ধ। মুসলমানরা হিন্দু বা অন্য কোনো ধর্মাবলম্বীর মতো আদাবের সময় মাথা নত করা বা হাত বুকে রেখে ঝুঁকে সম্মান প্রদর্শন করতে পারবেন না। কারণ একজন মুমিন কেবল আল্লাহর সামনেই মাথা নত করবে।

হিন্দু শিক্ষককে কি আদাব বলা যাবে

ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা গেলে, আদাব কোনো ধর্মীয় সম্ভাষণ নয়, তাই এটি অন্যান্য সাধারণ সম্ভাষণের মতো ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে যে আমাদের আচরণ কখনো অমুসলিমদের মতো ধর্মীয় রীতির অংশ হিসেবে না হওয়া উচিত। উদাহরণস্বরূপ, আদাব বলার সময় শিক্ষকের সামনে মাথা নত করা বা বুকে হাত রাখা এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।

তাছাড়া, আমরা চাইলে আদাবের পরিবর্তে অন্যান্য সেকুলার বা সাধারণ সম্ভাষণও ব্যবহার করতে পারি, যেমন—“গুড মরনিং”, “হ্যালো” ইত্যাদি। এছাড়াও, সুন্দরভাবে হেসে সম্ভাষণ জানানোও কার্যকর হতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, আদাবকে কখনো কোনো ধর্মীয় নিয়মের মতো রীতি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

অমুসলিমদের সালাম দেওয়া যাবে কি

ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে অমুসলিমদের সালাম দেওয়া যাবে না। তবে তাদের সঙ্গে সাধারণ সৌজন্যসূচক সম্ভাষণ ব্যবহার করা এবং ভদ্র আচরণ প্রদর্শন করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। অর্থাৎ, আমরা চাইলে আদাব, গুড মরনিং বা অন্যান্য সেকুলার সম্ভাষণ ব্যবহার করতে পারি এবং ভদ্রভাবে আচরণ করতে পারি।

আদাব বলতে ঠিক কী বোঝায়?

“আদাব” শব্দটি আরবী ‘أدب’ থেকে এসেছে এবং এর মূল অর্থ হলো — সম্মান, শ্রদ্ধা, বিনয়, নম্রতা, ভদ্রতা, মানবিক আচরণ। আপনি কাউকে “আদাব” বললে মূলত বোঝাচ্ছেন — “আমি আপনাকে সম্মান জানাচ্ছি, ভদ্র সম্ভাষণ দিচ্ছি”।

ইসলাম দৃষ্টিতে আদাব কি বৈধ?

হ্যাঁ — ইসলামি দৃষ্টিতে ভদ্র সম্ভাষণ ও ভালো আচরণ অত্যন্ত উৎসাহনায় বিষয়। যদিও “আদাব” শব্দটি বিশেষ কোনো ধর্মীয় রীতি নয়, নম্রতা ও ভদ্রতা ইসলাম বলেছে। উদাহরণস্বরূপ, Qurʼān‑এর আয়াতে বলা হয়েছে:
“আর যখন তোমাদেরকে অভিবাদন করা হবে তখন তোমরাও তার চেয়ে উত্তম বা সেটার সমপরিমাণ উত্তর দাও।” (সুরা আন‑নিসা: ৮৬) এটি দেখায় — কারো সঙ্গে ভালো সম্ভাষণ ও আচরণ জরুরি।

হিন্দু শিক্ষক বা অন্য ধর্মাবলম্বীকে কি “আদাব” বলা যাবে?

হ্যাঁ — সাধারণ ভদ্র সম্ভাষণ হিসেবে “আদাব” বলা যেতে পারে, কারণ এটি মানুষের প্রতি সম্মান প্রকাশ। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে যে আমাদের আচরণ কখনো অমুসলিমদের মতো ধর্মীয় রীতির অংশ হিসেবে না হওয়া উচিত। আদাব বলার সময় শিক্ষকের সামনে মাথা নত করা বা বুকে হাত রাখা এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।

অমুসলিমদের কি সালাম দেওয়া যাবে?

না, অমুসলিমদের সালাম দেওয়া যাবে না।

Author

  • Masud Shorif

     

    Masud Shorifবাংলাদেশি অনুবাদক মাসুদ শরীফের জন্ম ১৯৮৭ সালের ৩ নভেম্বর। ইসলামিক ভাবধারার বই অনুবাদ করে তিনি যথেষ্ট পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তিনি আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ থেকে ইলেকট্রনিকস এন্ড ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন।  বর্তমানে তিনি পুরোদস্তুর লেখক-অনুবাদক। পাঠকনন্দিত মাসুদ শরীফ এর বই সমগ্র হলো 'বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মাদ' (ড. হিশাম আল আওয়াদি), 'হালাল বিনোদন' (শাইখ আবু মুয়াবিয়াহ ইমসালই কামদার), 'স্রষ্টা ধর্ম জীবন' (ড. আবু আমিনাহ বিলাল ফিলিপ্স), 'আবু বকর আস-সিদ্দীক: জীবন ও শাসন' (ড. আলী মুহাম্মাদ আস-সাল্লাবী), 'দু'আ বিশ্বাসীদের হাতিয়ার' (ড. ইয়াসিন ক্বাদি) ইত্যাদি। শুধু নিছক অনুবাদগ্রন্থ হিসেবে নয়, মাসুদ শরীফ এর বই পাঠকদের ইসলামিক বইগুলোর সাহিত্যরস বাংলায় অনুভব করতে উদ্দীপনা জোগায়, তাঁর সাবলীল শব্দশৈলীর প্রয়োগ রচনাগুলোতে করে প্রাণসঞ্চার। বর্তমানে এই অনুবাদক স্ত্রী, দুই কন্যা ও মা-বাবাকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করছেন।

    View all posts
Islampidia Logo

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ!

আমাদের সকল প্রশ্নের উত্তর আপনার মেইলে পেতে চাইলে যুক্ত হন

We don’t spam! Read our privacy policy for more info.

By মাসুদ শরীফ

  Masud Shorifবাংলাদেশি অনুবাদক মাসুদ শরীফের জন্ম ১৯৮৭ সালের ৩ নভেম্বর। ইসলামিক ভাবধারার বই অনুবাদ করে তিনি যথেষ্ট পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তিনি আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ থেকে ইলেকট্রনিকস এন্ড ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন।  বর্তমানে তিনি পুরোদস্তুর লেখক-অনুবাদক। পাঠকনন্দিত মাসুদ শরীফ এর বই সমগ্র হলো 'বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মাদ' (ড. হিশাম আল আওয়াদি), 'হালাল বিনোদন' (শাইখ আবু মুয়াবিয়াহ ইমসালই কামদার), 'স্রষ্টা ধর্ম জীবন' (ড. আবু আমিনাহ বিলাল ফিলিপ্স), 'আবু বকর আস-সিদ্দীক: জীবন ও শাসন' (ড. আলী মুহাম্মাদ আস-সাল্লাবী), 'দু'আ বিশ্বাসীদের হাতিয়ার' (ড. ইয়াসিন ক্বাদি) ইত্যাদি। শুধু নিছক অনুবাদগ্রন্থ হিসেবে নয়, মাসুদ শরীফ এর বই পাঠকদের ইসলামিক বইগুলোর সাহিত্যরস বাংলায় অনুভব করতে উদ্দীপনা জোগায়, তাঁর সাবলীল শব্দশৈলীর প্রয়োগ রচনাগুলোতে করে প্রাণসঞ্চার। বর্তমানে এই অনুবাদক স্ত্রী, দুই কন্যা ও মা-বাবাকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।