সুদ কি? কেন ইসলাম সুদকে হারাম করেছে? আজকের এই আর্টিকেলে এইসকল বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।
উইকিপিডিয়া বলে, সুদ অর্থ অতিরিক্ত। সুদ শব্দটি উর্দু। আরবি প্রতিশব্দ ‘রিবা’। সুদকে ইংরেজিতে বলা হয় ইন্টারেস্ট (Interest) বা ইউজারি (Usury) । ‘রিবা’ অর্থ বেশি হওয়া, বৃদ্ধি পাওয়া, অতিরিক্ত, সম্প্রসারণ, মূল থেকে বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি।
প্রেক্ষাপট
বাস্তবিক সুদের প্রেক্ষাপট উইকিপিডিয়ার সাথে মেলে না।
যেমন কোনো দরিদ্র বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি কারো কাছ থেকে ঋণ নিল। ঋণদাতা তার এ বিপদের সুযোগে তার থেকে সুদ গ্রহণ করল, এটা সুস্পষ্ট জুলুম। অন্যের বিপদের সুযোগ নেওয়া অমানবিক কাজ। তবে এখনকার দিনের প্রচলিত সুদ এমন নয়; বরং সম্পূর্ণ ভিন্ন।
আসলেই কি সুদ হারাম? কোরআন কি বলে ?
পবিত্র কুরআন মজিদে আল্লাহ তায়ালা একাধিকবার সুদকে নিসিদ্ধ ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন :
মানুষের সম্পদ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে তোমরা যে সুদ দিয়ে থাকো আল্লাহর দৃষ্টিতে তা সম্পদ বৃদ্ধি করে না। কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তোমরা যে জাকাত দিয়ে থাকো তা বৃদ্ধি করে। প্রকৃতপক্ষে জাকাত প্রদানকারীরাই সমৃদ্ধি আনে। (সুরা: রূম, আয়াত: ৩৯)
হে ঈমানদারগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেয়ো না। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাক, যাতে তোমরা কল্যাণ অর্জন করতে পারো।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৩০)
আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং সদকাহকে বৃদ্ধি দেন। (সুরা: বাকারা, আয়াত ২৭৬)
কেন সুদ হারাম ও ব্যবসা হালাল

ইসলামি অর্থনীতিতে বেশ কয়েকটি কারণে সুদকে সবচেয়ে জঘন্য অপরাধ ও অর্থনৈতিক শোষণের প্রধান হাতিয়ার বিবেচনা করা হয়। কয়েকটি কারণ নিচে উল্লেখ করা হলো:
ইসলামি অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা হচ্ছে, পুঁজি মুষ্টিমেয় লোকের মাঝে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। কারণ এর ফলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা চরমভাবে ব্যাহত হয়।
এ জন্যই পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন :
ধন-ঐশ্বর্য যেন কেবল তোমাদের বিত্তশালীদের মধ্যেই পুঞ্জীভূত না হয়।’ (সুরা হাশর: ৭)
কিন্তু সুদের ফলে পুঁজি মুষ্টিমেয় লোকের মধ্যে আবর্তিত ও বৃদ্ধি পেতে থাকে। এতে একশ্রেণির মানুষের সম্পদ বিনা শ্রমে, বিনা উৎপাদনে বৃদ্ধি পেতে থাকে, আরেক দিকে গরিব মানুষেরা প্রয়োজনীয় উৎপাদনের জন্য অমানুষিক শ্রম সত্ত্বেও দিন দিন আরও গরিব হতে থাকে।
অর্থনৈতিক শ্রেণিবৈষম্য
সুদের কারণে অর্থনৈতিক শ্রেণিবৈষম্যের সৃষ্টি হয়। ধনীরা আরও ধনী হতে থাকে, গরিবেরা গরিব হতে হতে একপর্যায়ে চরম অসহায়ত্বের পর্যায়ে চলে যায়। এর ফলে অনেকে আত্মহত্যা কিংবা বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।
দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি
সুদভিত্তিক অর্থব্যবস্থায় পণ্যের স্বাভাবিক মূল্য তথা উৎপাদন খরচ, পরিবহন খরচ, শুল্ক ও স্বাভাবিক মুনাফার ওপর উপর্যুপরি সুদ যোগ হতে থাকে। এর ফলে দ্রব্যমূল্য দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে।
সুদ গ্রহণের শাস্তি
সুদের শাস্তি সম্পর্কে পবিত্র কুরআন মজিদের কয়েকটি আয়াত তুলে ধরলাম
যারা সুদ খায়, তারা তার ন্যায় (কবর থেকে) উঠবে, যাকে শয়তান স্পর্শ করে পাগল বানিয়ে দেয়। এটা এ জন্য যে, তারা বলে, ব্যবসা তো সুদের মতোই। অথচ আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে করেছেন হারাম।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ২৭৫)
মহানবী হজরত মুহাম্মদ ﷽ বলেন :
মেরাজের রাতে আমি এমন একটি দল অতিক্রম করেছি যাদের পেট ঘরের মতো (বড়)। ভেতরে অনেক সাপ। যা পেটের বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছিল। আমি বললাম, হে জিবরাইল! এরা কারা? তিনি উত্তর দিলেন, এরা আপনার উম্মতের সুদখোর লোক। (ইবনে মাজাহ ২২৭৩)
আল্লাহ রব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে সুদ থেকে বাঁচার তৌফিক দান করুন ও আমাদের হালাল রুজির ব্যবস্থা করে দিন। আমিন।

