ঈদে মিলাদুন্নবী শেষ নবীর জন্মদিন হিসেবে মুসলমানদের মধ্যে পালিত একটি উৎসব। মুসলিমদের মধ্যে এ দিনটি বেশ উৎসবের সাথে পালন হতে দেখা যায়। তবে উৎসব নিয়ে ইসলামি পণ্ডিতদের মাঝে অনেক বিতর্ক রয়েছে। হিজরি বর্ষের তৃতীয় মাস রবিউল আউয়াল-এর ১২ তারিখে এ উৎসব পালিত হয়।
তবে কী ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা যাবে?
অধিকাংশ আলেমদের মতামত অনুযায়ী ঈদে মিলাদুন্নবী নবী হযরত মোহাম্মদ (স.) নিজে জীবনে কখনো পলন করেন্নি। এটি হযরত মোহাম্মদ (স.) এর যুগে ছিল না, সাহাবিদের যুগেও ছিল না, এমনকি তাবেই বা তাবে- তাবেয়ীদের যুগেও ছিল না। সুতরাং যে আমল ইসলামের সোনালি যুগে ছিলনা সেটি কী করে সুন্নত বা নফল ইবাদত হতে পারে। এখান থেকে বোঝা যায় এই দিনে ইবাদতের নামে যা কিছু পালন করা হয় তা ভিত্তিহিন এবং বানোয়াট।

নবীর জন্মদিন কোন দেশে কি নামে পরিচিত এবং কীভাবে পালিত হয়?
মিলাদুন্নবী প্রায় সব ইসলামি দেশেই পালিত হয় এবং অন্যান্য দেশে যেখানে উল্লেখযোগ্য মুসলিম জনসংখ্যা আছে, যেমন ইথিওপিয়া, ভারত, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, নাইজেরিয়া, কোট ডিলভোয়ার, ইরাক, ইরান, মালদ্বীপ, মরক্কো, জর্ডান, লিবিয়া, রাশিয়া ও কানাডায়পালিত হয়। একমাত্র ব্যতিক্রম হল কাতার ও সৌদি আরব যেখানে এটি সরকারি ছুটির দিন নয় এবং নিষিদ্ধ। কোকোস (কিলিং) দ্বীপপুঞ্জে হারি মিলাদুন্নবী একটি সরকারি ছুটির দিন। তবে, বিংশ শতকের শেষের দশকে সালাফিবাদের উত্থানের কারণে মিলাদুন্নবীকে “নিষিদ্ধ এবং না-যায়েজ” করার একটি প্রবণতা দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশি মুসলমানরা এই দিনকে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী বলে অভিহিত করেন। অপরদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের কাছে এই দিন নবী দিবস নামে পরিচিত।
তুরস্কে মিলাদুন্নবী ব্যাপকভাবে পালিত হয়। এটিকে তুর্কি ভাষায় মেভলিড কান্দিলি বলা হয়। মুহাম্মাদের জীবন সম্পর্কিত ঐতিহ্যবাহী কবিতাগুলি পাবলিক মসজিদ এবং সন্ধ্যায় বাড়িতে উভয় স্থানে আবৃত্তি করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবৃত্তি হয় সুলেমান চেলেবির লিখিত মওলিদ। অটোমান যুগে প্রচুর অন্যান্য মওলিদ গ্রন্থ রচিত হয়েছিল।প্রায়শই কিছু দেশে সুফি তরিকা দ্বারা আয়োজিত হয়, মিলাদুন্নবী উদযাপনে বড় রাস্তায় শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয় এবং বাড়ি বা মসজিদ সজ্জিত করা হয়। দাতব্য ও খাবার বিতরণ করা হয়, এবং শিশুদের কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে মুহাম্মাদের জীবন সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়। আলেম ও কবিগণ ত্রয়োদশ শতকের আরবি সুফি বুসিরির বিখ্যাত কবিতা কাসিদা ই-বুরদা শরীফ পাঠ করে উদযাপন করেন। যাইহোক, এই উৎসবগুলোর মূল তাৎপর্য হল মুহাম্মাদের প্রতি ভালবাসার প্রকাশ।পাকিস্তানের মিলাদুন্নবীর সময় কেন্দ্রীয় রাজধানীতে ৩১ বন্দুকের স্যালুট এবং প্রাদেশিক রাজধানীতে ২১ বন্দুকের স্যালুটের মাধ্যমে দিনটি শুরু হয় এবং দিনের বেলা ধর্মীয় স্তব গাওয়া হয়। ইন্দোনেশিয়ার অনেক অংশে মিলাদুন্নবী উদযাপনের “গুরুত্ব, প্রাণবন্ততা ও জাঁকজমকতা” ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দুটি সরকারী ইসলামি ছুটির দিনকে ছাড়িয়ে গেছে।তিউনিসিয়ার কায়রাওয়ানে মুসলমানরা মুহাম্মাদকে তার জন্মের সম্মানে স্বাগত জানিয়ে তার প্রশংসায় নাশিদ আবৃত্তি করে।এছাড়াও, সাধারণত তিউনিসিয়ায় লোকেরা প্রচলিতভাবে মিলাদুন্নবী উদযাপনের জন্য আসিদাত জগগুউ প্রস্তুত করে। অমুসলিম দেশগুলির মধ্যে ভারত মওলিদ উৎসবের জন্য বিখ্যাত। হায়দ্রাবাদ, তেলেঙ্গানা তাদের জমকালো মিলাদ উৎসবের জন্য বিখ্যাত; ধর্মীয় সভা, রাতব্যাপী প্রার্থনা, সমাবেশ, কুচকাওয়াজ এবং সাজসজ্জা শহর জুড়ে করা হয়।
- খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের নেতৃত্বে কে? সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের তালিকা
- কে নির্ধারণ করবেন মানুষ জান্নাতে যাবে না জাহান্নামে? — ইসলামের দৃষ্টিতে পূর্ণ ব্যাখ্যা
- ভূমিকম্প কেন হয়? ভূমিকম্প সম্পর্কে ইসলাম কী বলে? ভূমিকম্পের দোয়া
- বিধর্মী বা নাস্তিক সন্তান কি সম্পত্তির উত্তরাধিকার পাবে?
- আদাব সম্পর্কে ইসলাম কি বলে










