সুপ্রিয় পাঠকবৃন্দ, সম্প্রতি নতুন আলোচনার বিষয় হলো ভারতের মসজিদ ভাঙ্গার বিষয়। মুসলমানদের মসজিদ ভাঙ্গার তাদের খুব শখ। কিন্তু তাদের শাস্তি কি হবে? মসজিদ ভাঙ্গার শাস্তি কি? কেউ মসজিদ ভাঙ্গার পর অনুতপ্ত হলে তার করনীয় কি হবে?

মসজিদ ধ্বংস করার শাস্তি

মসজিদ ভাঙ্গার শাস্তি শুধু আখিরাতে নয়। দুনিয়ার বুকেই হবে। দুনিয়ায় তারা লাঞ্ছিত হবে আর আখিরাতেও লাঞ্ছিত হবে ও মহাশাস্তি ভোগ করবে।

মহান আল্লাহ বলেন, — আর তার চেয়ে অধিক যালিম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর ঘর মসজিদগুলোতে তাঁর নাম স্বরণ করতে বাধা দেয় এবং এগুলো ধ্বংস করার চেষ্টা করে? অথচ ভীত-সন্ত্রস্ত না হয়ে তাদের সেগুলোতে প্রবেশ করা সঙ্গত ছিল না। দুনিয়াতে তাদের জন্য লাঞ্চনা ও আখেরাতে রয়েছে মহাশাস্তি –(সূরা আল-বাক্বারাহ : ১১৪)।

খৃষ্টানরা ইহুদীদের বায়তুল মুক্বাদ্দাসে ছালাত আদায় করতে বাধা দিয়েছিল এবং তা বিনাশ করতে চেয়েছিল। ইবনু কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, মক্কার মুশরিকরা রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর ছাহাবীদেরকে মক্কা থেকে বের হতে বাধ্য করেছিল এবং পবিত্র কা‘বায় মুসলিমদেরকে ইবাদত করতে বাধা দিয়েছিল।

এমনকি হুদায়বিয়ার সন্ধিতেও একমাত্র আল্লাহর ঘর যিয়ারতের উদ্দেশ্যেই রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কায় প্রবেশ করতে চাইলে তারা বাধা দেয় (তাফসীর ইবনু কাছীর, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩৮৭-৩৮৮)

কারা মসজিদ ভাঙ্গে?

উপরিউক্ত আয়াত ও তার প্রেক্ষাপটে বুঝা যায়, মসজিদ ভাঙ্গা বা মুছল্লীদের মসজিদে যেতে বাধা দেয়া অমুসলিমদের কাজ। বাবরী মসজিদ হিন্দুরা ভেঙ্গে দিয়েছে। এছাড়া সারা বিশ্বে যারা যেখানে মসজিদ বন্ধ করে দিচ্ছে তারা সব অমুসলিম। তাই যুগে যুগে অমুসলিমরাই মসজিদ ভাঙ্গার কাজ করেছে। এছাড়াও বর্তমানে ভারতের পাগলউন্মাদের বেশে তথাকথিত সভ্য হিন্দুরা মসজিদ ভাঙ্গার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। তাদের জন্য একটা কথা না বললেই নয়,

সবুর করো বাছা, সময় আসবে এমন ইঁদুরের গর্তও পাবেনা পালাবার জন্য

আল্লার হাত থেকে পালিয়ে যাবে কোথায়?

মসজিদের মালিকানা কার?

জানা আবশ্যক যে, যখন কোন স্থানকে মসজিদ হিসাবে ঘোষণা করা হয়, তখন তার মালিক হয়ে যান স্বয়ং মহান আল্লাহ। আর আল্লাহর মালিকানায় থাকা কোন স্থাপনা ভাঙ্গা আল্লাহর সাথে যুদ্ধের শামিল (সূরা আল :মায়েদাহ ৩৩)।

আবার মসজিদ ভাঙ্গার পরে যুক্তি দিয়ে কেউ কেউ সালাফী বা আহলেহাদীছ আক্বীদার মসজিদকে ‘মসজিদে যিরার’ সাথে তুলনা করে থাকে এবং হিংসা-বিদ্বেষ ছড়ায়। এদেরকে মুসলিম বলার কোন সুযোগ নেই।

মসজিদ ভাঙার পর অনুতপ্ত হলে করণীয় কি?

দ্রুত তওবা করে ফিরে আসা তাদের প্রথম পদক্ষেপ হতে হবে। ভাঙ্গা মসজিদ নিজ অর্থায়নে তা দ্রুত নির্মাণ করে দিতে হবে (বুখারী, হা/৩৪৩৬)।

ব্যক্তির সাথে শত্রুতা থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু মসজিদের সাথে শত্রুতা কেবল অমুসলিমদের থাকতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে অনুতপ্ত হতে হবে। সুযোগ থাকার পরও যারা তওবা করে ফিরে আসবে না-

তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে লাঞ্ছনা এবং কঠিন শাস্তি অপেক্ষা করছে (সূরা আল-ফীল : ১-৫; ছহীহ বুখারী, হা/২৪৮২)।

মুসলমানদের জন্য করনীয় কি?

মসজিদ ভাঙ্গার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ও সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

ইনকিলাব জিন্দাবাদ

আল্লাহ তায়ালা যেম ভারতীয় মুসলিমদের হেফাজত করেন ও জালিমদের অত্যাচার প্রতিরোধ গড়ার তৌফিক দান করেন। আমিন।

Author

Islampidia Logo

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ!

আমাদের সকল প্রশ্নের উত্তর আপনার মেইলে পেতে চাইলে যুক্ত হন

We don’t spam! Read our privacy policy for more info.

By মোঃ আহসান হাবিব

মোঃ আহসান হাবিব হলেন ইসলামপিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও এ্যাডমিন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।