সূর্য গ্রহণের সময় গর্ভবতীদের করণীয় ইসলাম কি বলে ? সূর্য গ্রহণ বা চন্দ্র গ্রহণ ইসলামের দৃষ্টিতে আল্লাহ তাআলার নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি মহান আল্লাহর কুদরতের প্রমাণ এবং তাঁর প্রতি বান্দার খোদাভীতি ও আনুগত্য প্রকাশের একটি সুযোগ। তবে আমাদের সমাজে সূর্য গ্রহণ বা চন্দ্র গ্রহণ নিয়ে অনেক কুসংস্কার প্রচলিত, বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের জন্য। এই কুসংস্কারগুলো ইসলামী শরিয়াহ ও বিজ্ঞানের সাথে সাংঘর্ষিক।
ইসলামে সূর্য গ্রহণের সময় করণীয়
হাদিসের আলোকে সূর্য গ্রহণের সময় গর্ভবতীসহ সকলের জন্য নিম্নলিখিত আমলগুলো সুপারিশ করা হয়েছে:
- আল্লাহর যিকির করা
- দুআ করা
- তাকবীর পাঠ করা
- ইস্তেগফার পড়া
- সদকা করা
- ছালাত আদায় করা (সূর্য গ্রহণের নামাজ বা কুসুফ সালাত)
- দাস মুক্ত করা
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহ তাআলার নিদর্শনের দুটি। এগুলো কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে গ্রহণ করে না। যখন তোমরা তা দেখবে, তখন নামাজে দাঁড়িয়ে যাবে এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করবে।’ (সহিহ বুখারি: ১০৪৩)
সূর্য গ্রহণের সময় গর্ভবতী নারীদের জন্য কুসংস্কার
সমাজে প্রচলিত কিছু ভ্রান্ত ধারণা হলো:
- গ্রহণের সময় গর্ভবতী নারীদের ঘুমানো নিষেধ।
- তারা কিছু কাটাকাটি করলে গর্ভস্থ সন্তানের ক্ষতি হয়।
- তৈরি করা খাবার ফেলে দিতে হবে।
এসব কুসংস্কারের কোনো ভিত্তি নেই। গর্ভবতী নারীদের জন্য আল্লাহর বিধান সকলের মতোই। তাদের উচিত আল্লাহর যিকির করা, নামাজ পড়া এবং সুন্নত অনুযায়ী আমল করা।
বিজ্ঞান কী বলে?
বিজ্ঞান বলছে, সূর্য গ্রহণ একটি স্বাভাবিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া। চাঁদ যখন পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে পড়ে, তখন কিছুক্ষণের জন্য সূর্য আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে ঢেকে যায়। এতে পৃথিবীতে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে না। তবে বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এ সময় গ্রহাণুপুঞ্জের কিছু বড় পাথর পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসার ঝুঁকি বাড়ে। তাই আল্লাহর প্রতি খোদাভীতি প্রকাশ করে আমাদের উচিত নামাজে দাঁড়িয়ে সাহায্য চাওয়া।
ইসলামের দৃষ্টিতে গ্রহণের শিক্ষা
সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণ আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন। এটি কিয়ামতের পূর্বাভাস এবং আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। তাই এই সময় আতঙ্কিত না হয়ে আল্লাহর ইবাদতে মনোনিবেশ করা উচিত।
মেয়েদের ইসলামিক নাম , যে ব্যক্তি শেষ তাশাহ্হুদের জন্য বসেছেন; কিন্তু তাশাহ্হুদ উচ্চারণ করতে ভুলে গেছেন— তার হুকুম কী?
সারসংক্ষেপ
গর্ভবতী নারীদের জন্য সূর্য গ্রহণের সময় কোনো বিশেষ বাধা-নিষেধ নেই। তাদেরও সবার মতোই আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া, নামাজ আদায় করা এবং কুসংস্কার থেকে দূরে থাকা উচিত। আল্লাহ তাআলার প্রতি ভরসা রেখে সুন্নত অনুযায়ী আমল করাই হলো প্রকৃত ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি।
সূত্র ও প্রমাণাদি
সূর্য গ্রহণ ও চন্দ্র গ্রহণের সময় ইসলামের নির্দেশনা এবং কুসংস্কার সম্পর্কে কোরআন ও হাদিস আমাদের দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
কুতায়বা (রহঃ) … আবূ বকরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, সূর্য এবং চন্দ্র হল আল্লাহ তা’আলার নিদর্শন সমূহের দুটি নিদর্শন, কারো মৃত্যু এবং কারো জন্মের জন্য তাদের গ্রহণ হয় না, এবং আল্লাহ তা’আলা তাদের দ্বারা তার বান্দাদের প্রদর্শন করে থাকেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১০৪৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৯০১)।
কোরআনে আল্লাহ বলেন,
তিনি সূর্যকে করেছেন তেজোদীপ, আর চন্দ্রকে আলোকময় আর তার (হরাস বাড়ান) মানযিলগুলি সঠিকভাবে বলেছে যাতে তোমরা বসরৎ গুণতে (সময়ের) সমান করতে পার। আল্লাহ এটা অনর্থক করেননি, তিনি নিদর্শনগুলোকে বিশদভাবে বর্ণনা করেন জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য।” (সুরা ইউনুস: আয়াত ৫)। অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, “আর আমি সৃষ্টি করেছি একটি প্রজ্বলিত বাতি।” (সুরা নাবা: আয়াত ১৩)। এসব আয়াত আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন এবং সূর্য-চন্দ্রের প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরে।
গর্ভবতী নারীদের জন্য গ্রহণের সময় প্রচলিত কুসংস্কার যেমন—কিছু কাটাকাটি করা নিষেধ, ঘুমানো যাবে না ইত্যাদির কোনো ভিত্তি ইসলামে নেই। নবীজি (সা.) এসব ভ্রান্ত ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছেন। মুগিরা ইবনু শুবা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, “সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণ কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে হয় না। এটি আল্লাহর নিদর্শন। যখন তোমরা তা দেখবে, তখন নামাজ আদায় করবে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৯৮৪)।
বিজ্ঞানও বলছে, সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণ একটি স্বাভাবিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া। এটি কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না। বিস্তারিত জানতে NASA-এর তথ্য এবং কোরআনের আয়াত বা হাদিসের তথ্য পড়তে পারেন। ইসলামের সঠিক জ্ঞান অর্জন এবং কুসংস্কার পরিহার করাই উচিত।
এমন আরও প্রশ্নের উত্তর জানতে আকীদা ও বিশ্বাস বিভাগের আর্টিকেল পড়তে পারেন

