আল্লাহর আইন মানে না এমন শাসককে ভোট দেওয়া কি জায়েজ?আল কুরআন

অনেক মুসলিমের মনে একটি প্রশ্ন জাগে—যে শাসক আল্লাহর বিধান অনুযায়ী শাসন করে না, তাকে কি ভোট দেওয়া যায়?
এই প্রশ্ন শুধু রাজনীতি নয়, বরং ঈমান, শরীয়াহ ও আল্লাহর হুকুম মানা সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। চলুন কুরআন ও হাদিস থেকে এর সঠিক উত্তর জানি।

আল্লাহর আইন – সর্বোত্তম বিধান

আল্লাহর আইনই মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

“তারা কি তবে জাহিলিয়্যাতের বিধান চায়? আর নিশ্চিত বিশ্বাসীদের জন্য বিধান প্রদানে আল্লাহর চেয়ে কে অধিক উত্তম?”
(সূরা মায়িদা: ৫০)

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, আল্লাহর আইন ছাড়া অন্য কোনো বিধান গ্রহণ করা জাহেলি মানসিকতার পরিচায়ক।

তাগুতের শাসন গ্রহণ – ঈমানের পরিপন্থী

যখন কেউ মুখে বলে, “আমি কুরআন-হাদিসে বিশ্বাস করি”, কিন্তু বাস্তবে আল্লাহর আইন বাদ দিয়ে মানুষের বানানো আইন মানে, তখন সেটা এক বিরাট গুনাহ।

কুরআনে এসেছে:

“আপনি কি তাদের দেখেননি, যারা দাবি করে যে, যা আপনার প্রতি এবং আপনার পূর্বে অবতীর্ণ হয়েছে আমরা তার উপর ঈমান এনেছি? অথচ তারা তাগুতের কাছে বিচার চাইছে…”
(সূরা নিসা: ৬০)

রাসূল ﷺ কে বিচারক না মানা – ঈমানের অভাবের লক্ষণ

আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

“তোমার রবের কসম, তারা মুমিন হবে না যতক্ষণ না তারা তোমাকে বিচারক নির্ধারণ করে… এবং পূর্ণ মন থেকে মেনে নেয়।”
(সূরা নিসা: ৬৫)

ইবনে কাছির (রহ.) ব্যাখ্যা করেন—যে কুরআন ও সুন্নাহকে বিচারক মানে না, তার ঈমান পূর্ণ নয়।

ভোট দেওয়ার শরীয়াহ নির্দেশনা

  • ইচ্ছাকৃতভাবে এমন শাসককে ভোট দেওয়া হারাম, যে আল্লাহর আইন মানে না।
  • এতে অন্যায়ের প্রতি সমর্থন ও গুনাহের কাজে অংশ নেওয়া হয়।

জবরদস্তির ক্ষেত্রে করণীয়

যদি ভয় থাকে—ভোট না দিলে ক্ষতি, চাকরি হারানো, গ্রেফতার ইত্যাদি হতে পারে—তাহলে:

  • সম্ভব হলে তার বিপক্ষে ভোট দিন।
  • না পারলে ভোট নষ্ট করে দিন।
  • কিছুই সম্ভব না হলে এবং ভয় থাকে, আল্লাহর কাছে আশা করা যায় এতে গুনাহ হবে না।

আল্লাহ বলেন:

“যার উপর জোর করা হয় এবং তার অন্তর ঈমানে অটল থাকে, সে ব্যতীত।” (সূরা নাহল: ১০৬)

রাসূল ﷺ বলেন:

“আমার উম্মতকে ভুল, বিস্মৃতি ও জোরপূর্বক কাজের গুনাহ থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।” (ইবনে মাজাহ – সহিহ)

একজন মুসলিমের কর্তব্য হলো সর্বদা আল্লাহর আইনকে অগ্রাধিকার দেওয়া। তবুও জীবন-ঝুঁকি বা চরম বাধ্যবাধকতায় শরীয়াহ নমনীয়তা দিয়েছে। তবে আমাদের চেষ্টা থাকতে হবে—অন্যায়ের সহযোগী না হওয়া এবং ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো।

Author

  • Masud Shorif

     

    Masud Shorifবাংলাদেশি অনুবাদক মাসুদ শরীফের জন্ম ১৯৮৭ সালের ৩ নভেম্বর। ইসলামিক ভাবধারার বই অনুবাদ করে তিনি যথেষ্ট পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তিনি আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ থেকে ইলেকট্রনিকস এন্ড ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন।  বর্তমানে তিনি পুরোদস্তুর লেখক-অনুবাদক। পাঠকনন্দিত মাসুদ শরীফ এর বই সমগ্র হলো 'বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মাদ' (ড. হিশাম আল আওয়াদি), 'হালাল বিনোদন' (শাইখ আবু মুয়াবিয়াহ ইমসালই কামদার), 'স্রষ্টা ধর্ম জীবন' (ড. আবু আমিনাহ বিলাল ফিলিপ্স), 'আবু বকর আস-সিদ্দীক: জীবন ও শাসন' (ড. আলী মুহাম্মাদ আস-সাল্লাবী), 'দু'আ বিশ্বাসীদের হাতিয়ার' (ড. ইয়াসিন ক্বাদি) ইত্যাদি। শুধু নিছক অনুবাদগ্রন্থ হিসেবে নয়, মাসুদ শরীফ এর বই পাঠকদের ইসলামিক বইগুলোর সাহিত্যরস বাংলায় অনুভব করতে উদ্দীপনা জোগায়, তাঁর সাবলীল শব্দশৈলীর প্রয়োগ রচনাগুলোতে করে প্রাণসঞ্চার। বর্তমানে এই অনুবাদক স্ত্রী, দুই কন্যা ও মা-বাবাকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করছেন।

    View all posts
Islampidia Logo

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ!

আমাদের সকল প্রশ্নের উত্তর আপনার মেইলে পেতে চাইলে যুক্ত হন

We don’t spam! Read our privacy policy for more info.

By মাসুদ শরীফ

  Masud Shorifবাংলাদেশি অনুবাদক মাসুদ শরীফের জন্ম ১৯৮৭ সালের ৩ নভেম্বর। ইসলামিক ভাবধারার বই অনুবাদ করে তিনি যথেষ্ট পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তিনি আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ থেকে ইলেকট্রনিকস এন্ড ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন।  বর্তমানে তিনি পুরোদস্তুর লেখক-অনুবাদক। পাঠকনন্দিত মাসুদ শরীফ এর বই সমগ্র হলো 'বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মাদ' (ড. হিশাম আল আওয়াদি), 'হালাল বিনোদন' (শাইখ আবু মুয়াবিয়াহ ইমসালই কামদার), 'স্রষ্টা ধর্ম জীবন' (ড. আবু আমিনাহ বিলাল ফিলিপ্স), 'আবু বকর আস-সিদ্দীক: জীবন ও শাসন' (ড. আলী মুহাম্মাদ আস-সাল্লাবী), 'দু'আ বিশ্বাসীদের হাতিয়ার' (ড. ইয়াসিন ক্বাদি) ইত্যাদি। শুধু নিছক অনুবাদগ্রন্থ হিসেবে নয়, মাসুদ শরীফ এর বই পাঠকদের ইসলামিক বইগুলোর সাহিত্যরস বাংলায় অনুভব করতে উদ্দীপনা জোগায়, তাঁর সাবলীল শব্দশৈলীর প্রয়োগ রচনাগুলোতে করে প্রাণসঞ্চার। বর্তমানে এই অনুবাদক স্ত্রী, দুই কন্যা ও মা-বাবাকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।