ইসলামে চারটি মাসকে নিষিদ্ধ ও বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে গণ্য করা হয়, যার মধ্যে জিলহজ মাস অন্যতম। এই মাস আত্মত্যাগ, ইবাদত এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সেরা সময়। বিশেষ করে জিলহজের প্রথম দশ দিন অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ, যা কোরআন ও হাদীসে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত। জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন: ফজিলত ও করণীয়

কোরআনুল কারিমে জিলহজের গুরুত্ব

আল্লাহ তাআলা কোরআনে জিলহজের প্রথম দশ দিনের মর্যাদা সম্পর্কে ইরশাদ করেন:

“শপথ ফজরের এবং দশ রাতের।”
(সুরা ফজর: ১–২)

মুফাসসিরগণের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এখানে “দশ রাত” বলতে জিলহজ মাসের প্রথম দশ রাতকে বোঝানো হয়েছে। এছাড়াও, আল্লাহ আরেক স্থানে বলেন:

“যেন তারা নিজেদের কল্যাণের স্থানসমূহে হাজির হতে পারে এবং নির্দিষ্ট কিছু দিনসমূহে আল্লাহর নাম স্মরণ করে, তিনি তাদেরকে যে চতুষ্পদ জন্তু রিজিক হিসেবে দিয়েছেন তার উপর। অতঃপর তা থেকে নিজেরাও খাও এবং অভাবগ্রস্তদেরও খাওয়াও।”
(সুরা হজ্জ: ২৮)

হাদীসে প্রমাণিত ফজিলত

জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের ফজিলত সম্পর্কে হাদীসে ব্যাপকভাবে আলোচনা করা হয়েছে। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন:

“জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের আমলের মতো আল্লাহর কাছে অন্য কোনো দিনের আমল অধিক প্রিয় নয়।”
সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, “আল্লাহর পথে জিহাদ থেকেও?”
তিনি বললেন, “হ্যাঁ, তবে সে ব্যক্তি নয় যে জীবনের ঝুঁকি ও সম্পদ নিয়ে জিহাদে বেরিয়ে পড়ে এবং আর কিছুই ফিরে আসে না।”
(বুখারী: ৯৬৯, তিরমিযী: ৭৫৭)

অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন:

“জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন আল্লাহর কাছে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দিন।”
(ইবনে হিব্বান: ৩০২)

এছাড়াও তিনি বলেন:

“এই পৃথিবীর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ও বরকতময় দিনগুলো হল এই দশ দিন।”
(তারতিবুল আমালী: ১৬৮৭)

আরাফার দিনের রোজার ফজিলত

জিলহজ মাসের ৯ তারিখ, যা আরাফার দিন নামে পরিচিত, এই দিনের রোজার বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন:

“আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, তিনি এর দ্বারা আগের এক বছর ও পরের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দিবেন।”
(তিরমিযী: ৭৪৯)

জিলহজ মাসে করণীয় আমল

জিলহজের প্রথম দশ দিনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল রয়েছে, যা মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। নিচে এই আমলগুলো তালিকাভুক্ত করা হলো:

  • কোরআন তিলাওয়াত ও যিকির: বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত করা এবং তাসবিহ, তাহমিদ ও তাকবীর পড়া।
  • নফল রোজা: ১ থেকে ৯ জিলহজ পর্যন্ত নফল রোজা রাখা, বিশেষ করে আরাফার দিনের রোজা।
  • তাকবীর ও তাসবিহ: প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর তাকবীর ও তাসবিহ পড়া।
  • পাপ থেকে বিরত থাকা: সকল গুনাহ ও পাপ কাজ থেকে দূরে থাকা।
  • হজ আদায়: সামর্থ্য থাকলে হজ পালন করা।
  • কোরবানি: সামর্থ্য থাকলে কোরবানি আদায় করা।
  • চুল-নখ না কাটা: কোরবানির নিয়ত করলে জিলহজ শুরু হওয়ার পর চুল, নখ ও শরীরের লোম না কাটা।
  • তাকবীরে তাশরিক: ৯ জিলহজ থেকে ১৩ জিলহজ পর্যন্ত প্রতি ফরজ নামাজের পর তাকবীরে তাশরিক বলা।
  • ঈদুল আজহা: ঈদুল আজহার সুন্নতসমূহ যথাযথভাবে পালন করা।
  • মাংস বণ্টন: কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও গরিব-দুঃখীদের মধ্যে বণ্টন করা।

উপসংহার

জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন এমন এক সময়, যখন অল্প আমলেও বেশি সওয়াব অর্জন করা যায়। রাসূলুল্লাহ (সঃ) নিজেই এই দিনগুলোকে বছরের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এই সময়ে বেশি বেশি ইবাদত, দোয়া, দান-সদকা, কোরআন তিলাওয়াত, নফল রোজা এবং কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা উচিত।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই পবিত্র দিনগুলোর মর্যাদা বুঝে আমল করার তাওফিক দিন এবং আমাদের গুনাহ মাফ করে দিন—আমীন

আরও জানতে: 

আরও ইসলামী তথ্য জানুন

কোরবানির পশুর মাংস, মাথা বা চামড়া কসাইকে পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া যাবে কি?

Author

Islampidia Logo

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ!

আমাদের সকল প্রশ্নের উত্তর আপনার মেইলে পেতে চাইলে যুক্ত হন

We don’t spam! Read our privacy policy for more info.

By Shakil Shawn

Shakil Shawn is a verified author of Islampidia.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।