
আজকের এই নিবন্ধে আমরা জানতে পারব শহীদ কারা? কাদের শহীদ বলা হয়? সাম্প্রতিক কোটা সংস্কার আন্দোলনে মৃত্যুবরন করা আবু সাঈদ কি শহীদ?
বিশ্বনবী ﷽ এর একজন উম্মত হিসেবে আমাদের সকলের শাহাদাতের তামান্না (শাহাদাতের আশা) করা উচিত। আমরা নিম্নোক্ত দোয়াটিও করতে পারি,
মানুষ মরনশীল, এই শব্দটা মেনে নেওয়া অনেকের পক্ষে কষ্টকর কিন্তু তারপরেও এটাই বাস্তব। আমাদের প্রত্যেকের মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। মৃত্যুর মধ্যে সর্বোত্তম ও সম্মানজনক মৃত্যু হলো শহীদি মৃত্যু। স্বয়ং নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বারবার শাহাদত কামনা করেছেন।
‘আল্লাহুম্মার যুকনি শাহাদাতান ফি সাবিলিক।’ অর্থ : হে আল্লাহ! আমাকে তোমার পথে শাহাদাত নসীব করো।
কুরআন হাদিসের আলোকে শহীদ কারা ?

যে ব্যক্তি দ্বীনের খেদমতে কাফেরদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে নিহত হন তাকে শহীদ বলে।
নবীজী ﷽ উক্ত ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও আরো অনেক মৃত ব্যক্তিকে শহীদি মর্যাদা লাভের সুসংবাদ দিয়েছেন। তাহলে শহীদ বা শাহাদাত কত প্রকার?
- খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের নেতৃত্বে কে? সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের তালিকা
- কে নির্ধারণ করবেন মানুষ জান্নাতে যাবে না জাহান্নামে? — ইসলামের দৃষ্টিতে পূর্ণ ব্যাখ্যা
- ভূমিকম্প কেন হয়? ভূমিকম্প সম্পর্কে ইসলাম কী বলে? ভূমিকম্পের দোয়া
- বিধর্মী বা নাস্তিক সন্তান কি সম্পত্তির উত্তরাধিকার পাবে?
- আদাব সম্পর্কে ইসলাম কি বলে
শহীদের প্রকারভেদ
মূলত শহীদ দুই প্রকার
১. হাকিকি বা প্রকৃত শহীদ
হাকিকি বা প্রকৃত শহীদ। যিনি দুনিয়া-আখিরাত উভয় বিচারে শহীদ। তাকে গোসল করানো হয় না। কাফন দেওয়া হয় না। যেসকল সাহাবায়ে কেরাম যুদ্ধ করতে গিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জীবন দেন তারা এই প্রকারভেদের অন্তর্ভুক্ত। এই ক্ষেত্রে শহীদেরা যে পোশাকে শহীদ হন সেই পোশাকেই তাদের দাফন সম্পন্ন হয়। এসকল শহীদ সম্পর্কে আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলেছেন :
وَلَا تَقُوْلُوْا لِمَنْ يُّقْتَلُ فِيْ سَبِيْلِ اللّٰهِ اَمْوَا تٌ ۗ بَلْ اَحْيَآءٌ وَّلٰـكِنْ لَّا تَشْعُرُوْنَ
ওয়ালা-তাকূলূ লিমাইঁ ইউকতালুফী ছাবীলিল্লা-হি আমওয়া-তুন বাল আহইয়াউওঁ ওয়ালা-কিল্লা-তাশ‘উরূন।
“আর আল্লাহর পথে নিহতদেরকে মৃত বলো না, বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা বুঝ না।”
(সূরা আল বাকারা, আয়াত ১৫৪)
২. হুকমি বা বিধানগত শহীদ

হুকমি বা বিধানগত শহীদ। যিনি নবী কারীম ﷽ এর সুসংবাদ মুতাবেক পরকালে শহীদের মর্যাদা লাভ করবেন। কিন্তু পৃথিবীতে তার ওপর প্রথম প্রকার শহীদের বিধান জারী হবে না। অর্থাৎ, সাধারণ মৃত ব্যক্তির মতো তাঁকেও গোসল-কাফন ইত্যাদি দেওয়া হবে।
শহীদ কারা?
কিছু নিদিষ্ট শর্তাবলী পাওয়া গেলে তাকে শহীদে হাকিকি বা প্রকৃত শহীদ গণ্য করা হবে।
আরও পড়ুন
- খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের নেতৃত্বে কে? সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের তালিকা
- কে নির্ধারণ করবেন মানুষ জান্নাতে যাবে না জাহান্নামে? — ইসলামের দৃষ্টিতে পূর্ণ ব্যাখ্যা
- ভূমিকম্প কেন হয়? ভূমিকম্প সম্পর্কে ইসলাম কী বলে? ভূমিকম্পের দোয়া
- বিধর্মী বা নাস্তিক সন্তান কি সম্পত্তির উত্তরাধিকার পাবে?
- আদাব সম্পর্কে ইসলাম কি বলে
(ক) মুসলমান হওয়া (খ) প্রাপ্ত বয়স্ক ও বোধসম্পন্ন হওয়া (গ) গোসল ফরজ হয়, এমন নাপাকি থেকে পবিত্র হওয়া (ঘ) বে-কসুর নিহত হওয়া (ঙ) মুসলমান বা জিম্মীর হাতে নিহত হলে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হওয়াও শর্ত। আর যুদ্ধ কবলিত এলাকায় কাফিরের হাতে অথবা ইসলামী খিলাফতের বিদ্রোহী ডাকাতের হাতে নিহত হলে ধারালো অস্ত্রের আঘাত শর্ত নয়। (চ) এমনভাবে নিহত হওয়া যার শাস্তি স্বরুপ প্রাথমিক পর্যায়েই হত্যাকারীর উপর কিসাসের বিধান আরোপিত হয়। (ছ) আহত হওয়ার পর কোন রূপ চিকিৎসা ও জীবন ধারনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিষয়াদী যেমনঃ খানা-পিনা ঘুমানো ইত্যাদির সুযোগ না পাওয়া। হুঁশ অবস্থায় তার ওপর এক ওয়াক্ত নামাযের সময় অতিবাহিত না হওয়া। পদদলিত হওয়ার আশংকা না থাকলে হুশ অবস্থায় লড়াইয়ের ময়দান থেকে তাঁকে উঠিয়ে না আনা।
হুকমি বা বিধানগত শহীদ কারা?

(১) এমন নিহত ব্যক্তি যার মধ্যে প্রথম প্রকার শহীদের শর্তাবলীর কোনো একটি পাওয়া যায়নি। (রদ্দুল মুহতার-২/২৫২)
(২) কাফির, বিদ্রোহী বা ডাকাতের ওপর কৃত আক্রমণ উল্টে এসে আক্রমণকারীকেই আঘাত করেছে এবং এ আঘাতেই আক্রমণকারী নিহত হয়েছে। (বুখারি-৩/১০২৭ পৃ: হা: ৪১৯৬)
(৩) ইসলামী রাষ্ট্রের সীমানারক্ষী, ডিউটিকালীন যার স্বাভাবিক মুত্যু হয়েছে। (মুসলিম-৩/১৫২০ পৃ: হা: ১৯১৩)
(৪) আল্লাহর পথে শাহাদত লাভের প্রার্থনাকারী, কিন্তু স্বাভাবিক মৃত্যু তার সে বাসনা পূর্ণ করেনি। (মুসলিম-৩/১৫১পৃ: হা: ১৯০৯)
(৫) জালিমের সঙ্গে অথবা নিজ পরিবার হেফাজতের লড়াইয়ে মৃত্যুবরণকারী। (আহমদ-১/১৯০পৃ: হা: ১৬৫৭)
(৬) নিজের জান-মাল ছাড়িয়ে আনা বা রক্ষা করার লড়াইয়ে নিহত ব্যক্তি। (আহমদ-১/১৮৭ পৃ: ১৬৩৩)
(৭) মজলুম রাজবন্দী। বন্দীদশাই যার মৃত্যুর কারণ। (উমদাতুল ক্বারী-১০/১৪৪পৃ:)
(৮) নির্যাতনের ভয়ে আত্মগোপনকারী। যার এ অবস্থায় মৃত্যু এসে গেছে।
(৯) মহামারীতে মৃত্যুবরণকরী। এ মর্যাদা সে ব্যক্তিও লাভ করবে যে মহামারী চালাকালীন আক্রান্ত এলাকায় সওয়াবের নিয়তে ধৈর্য্য ধরে অবস্থান করে এবং সে সময় স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করে। (বুখারি শরীফ:১/১৬২পৃ: হা: ৬৫৩)
(১০) ডায়রিয়ায় বা পেটের পীড়ায় মৃত্যুবরণকারী। (বুখারি শরিফ-১/১৬২ পৃ. হা:৬৫৩)
(১১) নিউমোনিয়ায় মৃত্যুবরণকারী। (মাজমাউয যাওয়াইদ-৫/৩৮৯পৃ. হা: ৯৫৫৪)
(১২) ذات الجنب অর্থাৎ, প্লুরিস রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তিও শহীদ। (সুনানে ইবনে মাজাহ-৩/৩৬৬ পৃ. হা: ২৮০৩)
(১৩) মৃগী রোগে বা বাহন হতে পড়ে মৃত্যুবরণকারী। (মুসতাদরাকে হাকেম-৩/৯০৯ পৃ. হা: ২৪১৬)
(১৪) জ্বরে ভুগে মৃত্যুবরণকারী। (উমদাতুল ক্বারী-১০/১৪৫)
(১৫) সী সিকনেস বা সমুদ্র দুলুনীতে মাথা ঘুরে বমি করে মৃত্যুবরণকারী। (সুনানে আবূ দাউদ-২/১০পৃ. হা: ২৪৯৩)
(১৬) যে ব্যক্তি রোগ শয্যায় চল্লিশবার ’লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নী কন্তু মিনায যালিমীন’ পড়ে এবং ওই রোগেই পরপারে পাড়ি জমায়।
(১৭) যে দম বদ্ধ হয়ে মারা গেছে।
(১৮) বিষাক্ত প্রাণীর দংশনে যার মৃত্যু হয়েছে। (মুসতাদরকুল হাকেম-৩/৯০৯পৃ. হা: ২৪১৬)
(১৯) হিংস্রপ্রাণী যাকে ছিড়ে ফেড়ে মেরে ফেলেছে। (মাজমাউয যাওয়াউদ-৫/৩৯০পৃ. হা: ৯৫৫৯)
(২০) পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণকারী। (বুখারি-১/১৬২পৃ. হা: ৬৫৩)
(২১) অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণকারী। (ইবনে মাজাহ-৩/৩৬৬পৃ. হা: ২৮০৩)
(২২) বিল্ডিং ধ্বসে বা দেয়াল চাপা পড়ে নিহত ব্যক্তি। (বুখারী-১/১৬২পৃ. হা: ৬৫৩)
(২৩) গর্ভবতী মৃত স্ত্রীলোক। (ইবনে মাজাহ-৩/৩৬৬পৃ. হা: ২৮০৩)
(২৪) সন্তান প্রসবকালে মৃত্যুবরণকারী অথবা প্রসবান্তে নেফাস চলাকালীন মৃত্যুবরণকারীনী। (ইবনে মাজাহ-৩/৩৬৬পৃ. হা: ২৮০৩)
(২৫) কুমারী অবস্থায় মৃত্যুবরণকারীনী। (সুনানে ইবনে মাজাহ-৩/৩৬৬পৃ. হা: ২৮০৩)
(২৬) প্রবাসে-পরদেশে মৃত্যুবরণকারী। (ফাতহুল বারী-৬/৫৬পৃ.)
(২৭) ইলমে দীন চর্চায় লিপ্ত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী। (উমদাতুল ক্বারী-১০/১৪৫)
(২৮) সওয়াবের আশায় আজান দেয় যে মুআজ্জিন। (আত্তারগিব ওয়াত তারহিব-১/১২৯পৃ. হা: ৩৬৪)
(২৯) যে ব্যক্তি বিবি বাচ্চার হক যথাযথ আদায় করে এবং তাদের হালাল খাওয়ায়।
(৩০) সত্যবাদী আমানতদার ব্যবসায়ী। (সুনানে তিরমিযী-১/৩৭৭পৃ. হা: ১২১২)
(৩১) মুসলমানদের শহরে খাদ্য আমদানীকারক ব্যবসায়ী।
(৩২) মানুষের সঙ্গে সদ্ব্যবহারকারী। যে শরয়ী প্রয়োজন ছাড়া মন্দ লোকের সঙ্গেও মন্দ আচরণ করে না।
(৩৩) উম্মতের ফেতনা-ফাসাদের সময় ও যিনি সুন্নাতের ওপর অটল থাকেন। (মেশকাত-১/৫৫পৃ. হা: ১৭৬)
(৩৪) যিনি রাত্রিবেলায় অজু করে শয়ন করেন এবং ওই ঘুমেই তার মৃত্যু এসে যায়। (উমদাতুল ক্বারী-১০/১৪৫প.)
(৩৫) জুমার দিনে মৃত্যুবরণকারী। (উমদাতুল ক্বারী-১০/১৪৫প.)
(৩৬) দৈনিক পঁচিশবার এই দোয়া পাঠকারী-‘আল্লাহুম্মা বারিক লি ফিল মাওতি ওয়া ফিমা বাদাল মাওতি।’ (মেরকাত : ৫/২৭০)
(৩৭) দৈনিক চাশ্তের নামাজ আদায়কারী। মাসে তিনদিন রোজা পালনকারী এবং ঘরে-সফরে সর্বদা বেতের নামাজ আদায়কারী। (উমদাতুল ক্বারী-১০/১৪৫প.)
(৩৮) প্রতি রাতে সুরা ইয়াসিন তিলাওয়াতকারী।
(৩৯) দৈনিক একশত বার দুরূদ পাঠকারী। (ত্ববরানী ফিল আওসাতি-৫/২৫২,পৃ.৭২৩৫)
(৪০) যে স্ত্রী তার সতীনের প্রতি তার স্বামীর (অন্যায়) ভালোবাসার দুঃখ সয়ে সয়ে মৃত্যুবরণ করে। (ফাতওয়া শামী-২/২৫২, আহকামে মায়্যেত-১০১-১১২)
আমাদের অন্যান্য পেজ
- A Powerful Case for Pure Monotheism: Review of “Three is Not One”
- About
- Advisory Board Members – Islampidia Global Network
- Al Quran
- Christianity in Islam
- Comments
- Download Full Video
- Download Now
- HSC Result with Marksheet
- Import Quran
- Islampidia Global Network
- Islampidia Radio
- Privacy Policy
- Quran
- Quran Dynamic – WordPress Plugin
- Read & Listen Quran
- Sign Up
- Tags
- Terms of Service
- User Profile
- আখিরাতের বিনিয়োগ
- আজকের নামাজের সময়সূচী
- আজকের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬
- আপনার লেখা প্রকাশ করুন
- আপনি সফলভাবে লগ আউট করেছেন
- আব্দুল কাদেরের সংগ্রামী জীবন: একটি ভিউ, একটি সহানুভূতি
- আমাদের দলের সদস্যরা (প্রশাসক,লেখক)
- আমার প্রোফাইল
- আল্লাহ
- ইসলামিক প্রশ্ন করার ওয়েবসাইট
- ইসলামী শরিয়ত
- একাউন্ট তৈরি করুন
- প্রশ্ন করুন
- বই
- সহায়তার জন্য আবেদন ফর্ম
অতএব যদি কোন ব্যক্তি জালিমের হাতে মারা যায় সে শহীদ। মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে শাহাদাতের মর্যাদা দিন।
শহিদ কারা, ইসলামের দৃষ্টিতে শহীদ কারা?শাহাদাত কত প্রকার? কারা শহীদের মর্যাদা পাবেন? শহীদ কাকে বলে? শহীদ সম্পর্কে কুরআন কি বলে? শহীদ কত প্রকার ও কি কি? শহীদের সংজ্ঞা কি? আশাকরি এসকল প্রশ্নের উত্তর আপনারা পেয়েছেন।
