রাতে বিড়াল কান্না করলে কি হয় ইসলাম কি বলে, বিড়াল পালন করা কি জায়েজ ? বাড়িতে বিড়াল কান্না করলে কি হয়? বাড়ির আশেপাশে বিড়াল কাঁদলে কি হয়? ইসলাম এ সম্পর্কে কি বলে এসকল প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আজকে আমাদের এই আর্টিকেল ।
বিড়াল পালন করা কি জায়েজ ?
প্রথমেই জেনে নেই, বিড়াল পালন সম্পর্কে ইসলাম কী বলে? ইসলামের দৃষ্টিতে বিড়াল পালনে কোনো অসুবিধা নেই। তবে বিড়ালকে পর্যাপ্ত খাদ্য-পানীয় সরবরাহ করতে হবে। বিড়ালের প্রতি যথাযথ দয়া-অনুগ্রহ দেখাতে হবে। বিড়ালকে কোনো ধরনের কষ্ট দেওয়া যাবে না। তবে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে, বিড়াল কোথাও নোংরা বা অপবিত্র করলে— সেটা যেন পরিচ্ছন্ন করে নেওয়া হয়।
বিড়ালের ওপর কোনো ধরনের অবিচার হলে গুনাহগার হতে হবে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে—
এক মহিলাকে একটি বিড়ালের জন্য আজাব দেওয়া হয়েছে। কারণ, বিড়ালটিকে আটকে রাখায় সেটি মারা গিয়েছিল। ফলে সে জাহান্নামে গেছে। বিড়ালটিকে সে আটকে রেখে সে খাবার-পানীয় দেয়নি। আবার ছেড়েও দেয়নি যাতে করে জমিনের পোকামাকড় খেয়ে বাঁচতে পারে।
(মুসলিম, হাদিস : ৫৭৪৫)
বিড়াল কেন কান্না করে ?
আল্লাহ রব্বুল আলামিন বিভিন্ন জীবকে বিভিন্ন শক্তি দিয়েছেন। কুকুর, বিড়াল কাঁদলে সামনাসামনি তাকে দেখতে পেলে অনেকেই এদের তাড়িয়ে দিয়ে কান্না বন্ধ করার চেষ্টা করে থাকে৷ কিন্তু এদের কান্নাকে অমঙ্গল কেন বলে তারও কিন্তু যুক্তি শোনা যায়৷ কিন্তু কোনো সৃষ্টিতে অমঙ্গল আছে বলে বিশ্বাস করা হতে নিষেধ করা হয়েছে এবং এমন ধারণাকারীর ব্যাপারে কঠিন শাস্তির কথা বর্ণিত হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
فَإِذَا جَاءَتْهُمُ الْحَسَنَةُ قَالُوا لَنَا هَذِهِ وَإِنْ تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ يَطَّيَّرُوا بِمُوسَى وَمَنْ مَعَهُ أَلَا إِنَّمَا طَائِرُهُمْ عِنْدَ اللَّهِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ
‘‘অতঃপর যখন তাদের শুভদিন ফিরে আসতো, তখন তারা বলতো এটা তো আমাদের প্রাপ্য। আর যদি তাদের নিকট অকল্যাণ এসে উপস্থিত হতো, তখন তা মূসা এবং তার সঙ্গীদের অশুভ কারণরূপে মনে করতো। শুনে রাখো! তাদের অকল্যাণ তো আল্লাহ্র কাছেই। কিন্তু তাদের অধিকাংশ লোকই অজ্ঞ’’। (সূরা আরাফঃ ১৩১)
বিড়াল থাকলে বাড়িতে জ্বীন আসেনা সত্য কিনা ?
বিড়াল একটি পবিত্র প্রাণী ।তবে এই বিড়াল পালন করলে বদ জ্বীন, বা রহমতের ফেরেস্তা বাড়িতে আসেনা , এই কথাটি মোটেও সত্য নয়। তাহলে বিড়াল কেন পোষে ?
কাবশা বিনত কা’ব ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আবূ কাতাদা (রাঃ) একদিন তাঁর নিকট আগমন করেন। তারপর কাবশা কিছু কথা বলেনঃ যার অর্থ হচ্ছে, আমি আবূ কাতাদা (রাঃ) এর জন্য উযূর পানি রাখি। ইত্যবসরে একটি বিড়াল এসে পাত্র থেকে পানি পান করে। আবূ কাতাদা (রাঃ) পাত্রটি কাত করে দিলে বিড়ালটি পানি পান করে। কাবশা বলেনঃ আবূ কাতাদা (রাঃ) আমাকে তার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, হে ভাতিজী! (আমি বিড়ালকে পাত্র থেকে পানি পান করিয়েছে দেখে) তুমি আশ্চর্যান্বিত হয়েছ কি? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, বিড়াল অপবিত্র নয়। কারণ যে সব প্রাণী প্রতিনিয়ত তোমাদের আশে পাশে থাকে, তাদের মধ্যে বিড়ালও একটি।
সহীহ, ইবনু মাজাহ হাঃ ৩৬৭, ইরউয়াউল গালীল হাঃ ১৭৩।
বিরালের ঝুটা কি হারাম ?
বিরালের ঝুটা হারাম নয় । কাবশা বিনতু কাব ইবনি মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি আবু কাতাদা (রাঃ)-এর পুত্রবধূ ছিলেন। আবু কাতাদা (শ্বশুর) তার নিকট এলেন। তিনি বলেন, আমি তার জন্য ওযুর পানি ঢাললাম। তিনি বলেনঃ একটি বিড়াল এসে তা পান করতে লাগল। তিনি পাত্রটি কাত করে ধরলেন আর বিড়ালটি পানি পান করতে থাকল। কাবশা বলেন, তিনি (শ্বশুর) দেখলেন, আমি তার দিকে তাকিয়ে আছি। তিনি বললেন, হে ভাইঝি! তুমি কি আশ্চর্য হচ্ছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “বিড়াল অপবিত্র নয়। এটা তোমাদের আশেপাশে বিচরণকারী অথবা বিচরণকারিণী।” —সহীহ। ইবনু মাজাহ– (৩৬৭)।
কেউ কেউ মালিক হতে বর্ণনা করেছেন যে, কাবশা কাতাদার স্ত্রী ছিলেন। সঠিক হলো কাতাদার ছেলের স্ত্রী ছিলেন। এ অনুচ্ছেদে আয়িশাহ ও আবু হুরাইরা (রাঃ) হতেও বর্ণিত হাদীস রয়েছে। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ সাহাবা, তাবিঈন ও পরবর্তীদের মতে, বিড়ালের ঝুটা নাপাক নয়। ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক এ মত দিয়েছেন। এ অনুচ্ছেদে এ হাদীসটি অধিকতর হাসান। ইমাম মালিকের তুলনায় আরোও উত্তম সনদে আর কেউ এ হাদীসটি বর্ণনা করতে পারেননি।
অতএব , রাতে বিড়াল কান্না করলে তা অশুভ লক্ষণ বা খারাপ কিছু এমন কিছুই নয়।
এমন আরও প্রশ্নের উত্তর পেতে ইসলামে পশুপাখি বিভাগের আর্টিকেল গুলো দেখুন ।

