ভন্ড কাদিয়ানী

কাদিয়ানী সম্প্রদায় কারা? তারা কি কাফের নাকি মুসলিম। বাংলাদেশেও কি কাদিয়ানী আছে? আহমাদিয়া সম্প্রদায় ও কাদিয়ানী কি একই? তারা কি ইসলাম পালন করে নাকি তারা অন্য ধর্মের? এইসকল প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আজকের এই আর্টিকেল।

কাদিয়ানী কারা?

মির্জা গোলাম আহমদ নামের একজন লোক ভারতের গুরুদাসপুরের কাদিয়ান নামক স্থানে জন্মগ্রহন করে। এই জন্য তার নাম হয় মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী। এই মির্জা গোলাম আহমদ এর অনুসারীরা নিজেদের কাদিয়ানী নামে পরিচয় দিত। পরে কাদিয়ানী দের কাফের হিসেবে ঘোষণা করা হলে তারা নিজেদেরকে আহমদিয়া মুসলিম জামায়াতের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে পরিচয় দিতে বেশি সাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

মির্জা গোলাম আহমদ নাকি নবী?

এখন সবার মনে প্রশ্ন একটাই কি এমন করেছিল মির্জা গোলাম আহমদ? তাহলে শুনুন

এই ব্যক্তি প্রথমে নিজেকে নবী হিসেবে দাবী করে। সে নিজেকে উম্মতি নবী হিসেবে দাবী করে । এই উম্মতি শব্দ নিয়ে তারা বেশ সজাগ। এরপর মির্জা গোলাম আহমদ দেখে যে নবুয়তের বানোয়াট ঘোষণা বেশিদিন টিকবেনা কারণ মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন :

মুহাম্মদ তোমাদের কোন ব্যক্তির পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী। আল্লাহ সব বিষয়ে জ্ঞাত (সূরা আহযাব আয়াত :৪০)

অতএব এই আয়াতের মধ্যে পরিস্কারভাবে বলা আছে : মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স) হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বশেষ নবি। তাঁর পরে আর কোনো নবি আসেন নি। আসবেনও না। এজন্য তাকে বলা হয় খাতামান্নাবিয়্যীন।

মসীহ ও ইমাম মাহদী মির্জা গোলাম আহমদ

এরপর সে পরিস্থিতি নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিজের নবী উপাধি ছেড়ে দিয়ে নিজেকে কখন ঈসা (আঃ) আবার কখনো ইমাম মাহদী দাবী করে। তার প্রকাশিত বিভিন্ন গ্রন্থ পড়লেই তা স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যায়। আহমদিয়া জামায়াত কতৃক প্রকাশিত মসীহ হিন্দুস্তান মে বইয়ের কভারেই স্পষ্ট করে লেখা যে, মির্জা গোলাম আহমদ একাধারে ইমাম মাহদী ও ঈসা (আঃ) (দাবি করে)।

একটু সাজিয়ে বলা যাক

বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার চক্করে ফেলে (যেমন মাসীহ, মাহদী, মুজাদ্দেদ, মুলহাম, মামুর ইত্যাদি) সাধারণ মানুষ থেকে নবুওত দাবির প্রসঙ্গটি চেপে যাওয়া মূলত ধোঁকা এবং প্রতারণামাত্র। মীর্যা কাদিয়ানীর দাবি অনুযায়ী-

ক. সে নবী এবং রাসূল।

খ. তার উপর ওহী অবতীর্ণ হয়েছে।

গ. সে স্বতন্ত্র শরীয়তের অধিকারী।

ঘ. তার মাধ্যমে মুজিযা প্রকাশিত হয়েছে।

ঙ. তার নিকট হযরত জিবরীল আ. আগমন করতেন।

চ. ফিরিশতাগণ ওহী নিয়ে তার নিকট আসতেন।ছ. সে তার দাবিকৃত ওহীকে কুরআন মাজীদের ন্যায় অকাট্য ঘোষণা করেছে।

জ. তার অস্বীকারকারীদেরকে সে কাফের ঘোষণা করেছে।

ঝ. আর যে একবার তাকে মানার পর তাকে প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণ করেছে সে তাকে মুরতাদ (ধর্মান্তরিত বা ধর্মত্যাগী) আখ্যা দিয়েছে।

[দ্রষ্টব্য : হাকীকতুল ওহী, লেখক, মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী, পৃ. ১২৪; রূহানী খাযায়েন ২২/১২৭; হাকীকতুল ওহী (বাংলা), পৃ. ৯৪]

স্পস্টতই সে মিথ্যবাদী কারণ:

নবীজী বলেন-

لاَ تَقُومُ السّاعَةُ حَتّى يُبْعَثَ دَجّالُونَ كَذّابُونَ قَرِيبٌ مِنْ ثَلاَثِينَ، كُلّهُمْ يَزْعُمُ أَنّهُ رَسُولُ اللهِ.ততদিন কিয়ামত হবে না, যতদিন না ত্রিশের মতো কাযযাব ও দাজ্জাল আবির্ভূত হয়। তাদের সকলেই দাবি করবে, সে আল্লাহর রাসুল। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৭৪৪৯; সহীহ বুখারী, হাদীস ৩৬০৯, ৭১২১

إِنّهُ سَيَكُونُ فِي أُمّتِي كَذّابُونَ ثَلَاثُونَ كُلّهُمْ يَزْعُمُ أَنّهُ نَبِيّ، وَأَنَا خَاتَمُ النّبِيِّينَ لَا نَبِيّ بَعْدِي.অচিরেই আমার উম্মতের মাঝে ত্রিশজন মিথ্যুক আবির্ভূত হবে। প্রত্যেকেই দাবি করবে সে নবী। অথচ আমি শেষ নবী। আমার পর কেউ নবী হবে না। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২২৩৯৫; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪২৫২; জামে তিরমিযী, হাদীস ২২১৯

কাদিয়ানীরা মুসলিম নয়?

কাদিয়ানীরা নিজেদেরকে শুধু মুসলিম নয়; ‘প্রকৃত মুসলিম’ বলে দাবি করে। আর বিশ্বের সকল মুসলমানকে শুধু মির্যা কাদিয়ানীকে না মানার কারণে কাফের মনে করে। অথচ বহু স্পষ্ট কুফুরী বিশ্বাস ও কর্মকাণ্ডের কারণে মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী অমুসলিম ও কাফের এবং তার অনুসারীরাও অমুসলিম এবং কাফের। গোটা মুসলিম উম্মাহ্র ঐকমত্য এবং মুসলিম আলিম ও গবেষকবর্গের সর্বসম্মত ফতোয়া ও সিদ্ধান্ত এটিই।

বিস্তারিত জানতে মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী (মৃত্যু : ১৯০৮ ঈসাব্দ, ১৩২৫ হিজরী) নবুওতের মিথ্যা দাবির কিছু নমুনা আর্টিকেল পড়ার অনুরোধ রইল।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Author

Islampidia Logo

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ!

আমাদের সকল প্রশ্নের উত্তর আপনার মেইলে পেতে চাইলে যুক্ত হন

We don’t spam! Read our privacy policy for more info.

By মোঃ আহসান হাবিব

মোঃ আহসান হাবিব হলেন ইসলামপিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও এ্যাডমিন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।